বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার রোধে নতুন নীতিমালা

নানা উপায়ে প্রতি বছর দেশ থেকে বিপুল অর্থ পাচার হচ্ছে। এর ৮০ শতাংশই যাচ্ছে আমদানি, রপ্তানিসহ বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে। এমন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার ঠেকাতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

নতুন এ নীতিমালার আলোকে প্রতিটি ব্যাংককে নিজস্ব নীতিমালা প্রস্তুত করে আগামী ১০ মার্চের মধ্যে বিএফআইইউতে জমা দিতে বলা হয়েছে। পাচার করা অর্থ চিহ্নিত করতে কৌশলগত বিশ্নেষণে বর্তমানে নয় সদস্যের কমিটি কাজ করছে।

নীতিমালার বিষয়ে গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, দেশের বাইরে পাচার করা অর্থের ৮০ শতাংশেরও বেশি বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন ও সংবাদমাধ্যমেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে সবচেয়ে বেশি মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচারের বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া বিএফআইইউ, দুদক ও সিআইডির যৌথ উদ্যোগে প্রণয়ন করা ‘বাংলাদেশের মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঝুঁকি নিরূপণ প্রতিবেদনেও’ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ পাচারকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব রোধে নীতিমালায় সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) অর্থ পাচারবিষয়ক প্রতিবেদন অনুযায়ী মিথ্যা ঘোষণায় বাণিজ্যের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ বাইরে পাঠানো ২০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৮তম। একইভাবে এ প্রতিবেদনে বাণিজ্যে ‘মিস ইনভয়েসিংয়ের’ মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ দেশে প্রবেশ করেছে- এমন ৫০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম রয়েছে। এসব বিবেচনায় বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার ঠেকাতে এ নীতিমালা করা হয়েছে। নীতিমালার আলোকে প্রতিটি ব্যাংকে বাণিজ্যভিত্তিক মানি লন্ডারিং ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে নিজস্ব নীতিমালা প্রস্তুত করে আগামী ১০ মার্চের মধ্যে বিএফআইইউতে দাখিল করতে হবে। আগামী ১ জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার প্রতিরোধে এ ইউনিট থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে কৌশলগত বিশ্নেষণ, ক্ষেত্র ও পদ্ধতি চিহ্নিত করা, সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া যাচাই, প্রতিটি ব্যাংকের আমদানি-রপ্তানি তথ্য পর্যালোচনা এবং চিহ্নিত ব্যাংকে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনাসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন উপমহাব্যবস্থাপকের নেতৃত্বে নয় সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি কাজ করছে।

Source:https://samakal.com